বুধবার । ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৪ই মাঘ, ১৪৩২

সুরখালীর-বারআড়িয়া সড়ক যেন মরণফাঁদ

তুরান হোসেন রানা

বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের বারআড়িয়ার চৌ-মোহনা পুরাতন খেয়াঘাট থেকে বারআড়িয়া কলেজ পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা এখন জনদুর্ভোগের চরম রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ ও বৃষ্টির সময়ে কর্দমাক্ত অবস্থার কারণে রাস্তাটি যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় মালামাল বোঝাই যানবাহন উল্টে প্রাণহানি ঘটেছে।

এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীদের চলাচল করে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য বহনকারী ভ্যান, ট্রাক, পিকআপ, আলমসাধু, মোটরসাইকেল এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্তত কয়েক হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে এত বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে যাতে প্রতিনিয়ত ট্রাক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল উল্টো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ধান ও তরমুজের মৌসুমে কৃষিপণ্য বোঝাই ট্রাক ও পিকআপ রাস্তায় দেবে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে পণ্য, অন্যদিকে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা ও কৃষকরা। খুলনা জেলার দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার রয়েছে বারোআড়িয়া বাজার। সপ্তাহে শুক্রবারে এখানে হাট বসে। ঢাকা সহ খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আসে ঐ বাজারে। এছাড়াও আশপাশে রয়েছে উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু হাট বাজার। এই সব বাজারসহ প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারে কপিলমুনি বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন।

বারআড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ মল্লিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি ঢুকলেই বিপদ। পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারি না। ট্রাক আটকে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই।”

বারবাড়িয়া শহীদ সরণি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শেখ মোঃ তোরাব আহমেদ ফিরোজ বলেন, “প্রতিদিন অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পায়। বর্ষা মৌসুমী হলেই রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যায়। বর্তমানে ইট সোলিংয়ের রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা পরিণত হয়েছে। গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেই যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে? রাস্তা তো নয়, যেন এটা মরণফাঁদ।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা এলজিইডি অফিসের তদারকিতে গাফিলতি ও ঠিকাদারদের অনিয়মের কারণে রাস্তা নির্মাণের সময় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট, বালি নিম্ন মানের হওয়ায় বছর যেতে না যেতেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই রাস্তাটি এলাকার অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয় নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন, সড়কটির বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন